twisted pair cable

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে তড়িৎ সিগন্যাল ট্রান্সমিট করার জন্য দুটি পরিবাহী কপার বা তামার তারকে একই অক্ষে পরস্পর সমভাবে পেঁচিয়ে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল তৈরি করা হয়। পেঁচানো তার দুটিকে পৃথক রাখার জন্য এদের মাঝে অপরিবাহী পদার্থ হিসেবে প্ল্যাস্টিকের আস্তরণ ব্যবহার করা হয়। তারদুটির মধ্যে একটি তথ্য প্রেরণে ব্যবহৃত হয় এবং অন্যটি গ্রাউন্ড রেফারেন্স। এই ধরনের ক্যাবলে সাধারণত মোট ৪ জোড়া তার ব্যবহার করা হয়। ৪ জোড়া তারের প্রতি জোড়ায় একটি কমন (সাদা) রঙের তার এবং একটি ভিন্ন রঙের (কমলা, সবুজ, নীল, বাদামী) তার থাকে। কালার কোডিং-এর জন্য প্রতি জোড়ায় একটি সাদা ও অন্য একটি ভিন্ন রঙের তার থাকে। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের ফ্রিকোয়েন্সি 0-5 MHz।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল পেঁচানোর কারণ:

সকল ট্রান্সমিশন শব্দ, ইন্টারফারেন্স এবং ক্রসটক দ্বারা প্রভাবিত হয়। তড়িৎ চৌম্বকীয় প্রভাব(EMI) ও রেডিও তরঙ্গের প্রভাব(RFI) দূর করার জন্য প্রতি জোড়া তারে প্রতি ইঞ্চিতে ৩টি পূর্ণ টুইস্ট বা প্যাচ থাকে। যখন তারগুলো প্যাচানো হয় তখন নয়েজ সিগন্যালের কিছু অংশ ডেটা সিগন্যালের দিকে থাকে এবং অন্য অংশগুলো বিপরীত দিকে থাকে। এইভাবে বিভিন্ন প্যাচের কারণে বাহ্যিক তরঙ্গগুলো বাতিল হয়। রিসিভার তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য দুটি তারের ভোল্টেজের মধ্যে পার্থক্য গণনা করে। এইভাবে নয়েজের বিরুদ্ধে সহজেই ডেটা ট্রান্সমিশন করা যায়।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের প্রকারভেদ:

শিল্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল দুই প্রকার। যথাঃ

  • এসটিপি (Shielded Twisted Pair-STP):

শিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে ডেটাকে নয়েজ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতি জোড়া তার এলুমিনিয়াম ফয়েল ও প্রটেকটিভ কপার শিল্ডিং দ্বারা আবৃত থাকে।

ব্যান্ডউইথ: ১৬ Mbps তবে ৫০০ Mbps হতে পারে

ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স: ১০০ মিটার

  • ইউটিপি (Unshielded Twisted Pair-UTP):

আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে ডেটাকে নয়েজ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতি জোড়া তার এলুমিনিয়াম ফয়েল ও প্রটেকটিভ কপার শিল্ডিং দ্বারা আবৃত থাকে না।

ব্যান্ডউইথ: ১০ Mbps

ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স: ১৫৫ মিটার (রিপিটার ছাড়া)

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের সুবিধাসমূহ:

১। কম দূরত্বে যোগাযোগের জন্য এই ক্যাবলটি ব্যবহৃত হয়।

২। এই ক্যাবলটি অন্যান্য ক্যাবল-এর চেয়ে দামে কম।

৩। সহজে ক্যাবলটি মেরামত করা যায়।

৪। এই ক্যাবলটি সহজে স্থাপন করা যায়।

৫। এটি পুরোনো ডেটা প্রেরণ পদ্ধতি।

৬। এনালগ ও ডিজিটাল উভয় ধরনের ডেটা প্রেরণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের অসুবিধাসমূহ:

১। বেশি দূরত্বে ডেটা পাঠানোর জন্য ২ কিঃ মিঃ পরপর রিপিটার ব্যবহৃত করতে হয়।

২। এই ক্যাবলে ট্রান্সমিশন লস‌ও অপেক্ষাকৃত বেশি।

৩। সহজেই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ এর গঠন পাতলা।

৪। সহজেই এই কেবল নয়েজ সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়।

৫। এই কেবলটি ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে তথ্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের ব্যবহার:

১। টেলিফোন লাইনে এই ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।

২। LAN এর ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়।

শেয়ার:

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + thirteen =